August 9, 2020, 11:58 am

হঠাৎ আগুনে পুড়িয়ে গেলে কি করবেন।

হঠাৎ আগুনে পুড়িয়ে গেলে কি করবেন।

স্বাস্থ সংবাদঃ

পাঠ – ১

পোড়া ও ঝলসানো আমাদের জীবনে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা৷ সামান্য অসর্তকতার কারণে শিশু এবং বড়রা এ ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকে৷ সাধারণত রান্নার চুলা, গরম পানি, গরম ছাই, ইস্ত্রি, গরম করার যন্ত্রপাতির ইত্যাদি মাধ্যমে এই দুর্ঘটনার হয়ে থাকে৷

বিভিন্ন কারণে পুড়তে পারে

আগুনে পোড়া

উত্তপ্ত বাষ্প বা ফুটন্ত তরলে পোড়া

ইলেক্ট্রিক বা বৈদ্যুতিক প্রবাহে পোড়া – শুষ্ক উত্তপ্ত বস্তু (ইস্ত্রি)

কড়া রাসায়নিক দ্রব্য – এসিড বা ক্ষার

রান্নার পরে গরম ছাই, তুষ ইত্যাদি

বিকিরণজনিত দগ্ধতা – অতিরিক্ত সূর্যরশ্মিতে দীর্ঘক্ষণ বা বিকিরণ যন্ত্রের বিকিরণের জন্য হয়ে থাকে

প্রাথমিক চিকিৎসা :

রোগীকে তার পোড়ার উত্স বা আগুন থেকে সরাতে হবে

পোড়া স্থানের আঁটসাট কাপড়, আংটি থাকলে খুলে ফেলতে হবে

স্বল্পমাত্রার পোড়ার ক্ষেত্রে পোড়ার অংশটিকে ঠাণ্ডা পানিতে কিছুক্ষণের জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে৷ (ঠাণ্ডা পানি ক্ষত বৃদ্ধি ও তার গভীরতা প্রতিহত করে অঙ্গটিকে বাতাসের সংস্পর্শ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে) শরীরের যে সকল অংশ পানিতে ডুবানো সম্ভবপর নয় সে সব অংশের জন্য বরফ শীতল পট্টি বা বরফ জড়ানো কাপড় দিয়ে আবৃত করে ফেলতে হবে কিছুক্ষনের জন্য৷ পোড়া অংশ কোনক্রমেই ডলাডলি করা যাবে না এবং ফোসকা ফাটানো বা তুলে ফেলা যাবে না

স্বল্প মাত্রার পোড়া হলে পোড়ার স্থলে মলম হালকা করে লাগানো যেতে পারে৷ আর ক্ষত বড় হলে পানি থেকে ওঠানোর পর মলম লাগিয়ে পরিষ্কার প্যাড বা কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করতে হবে যেন পোড়া অংশটি বায়ুর সংস্পর্শে আসতে না পারে৷ ফোসকা থাকলে সাবধানে ব্যান্ডেজ করা উচিত যেন ফোসকাগুলি গলে না যায়

রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খাওয়ানো ভালো

হালকা পোড়া, মাথা ও মুখে পোড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতস্থান খোলা রাখতে হবে

পরামর্শ

প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে হবে৷

পোড়া জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে৷

ধুলো, মাছি এবং ময়লা যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷

সতর্কতা

অনেকে পোড়া ক্ষতে ডিম, পুরাতন ঘি, মাখন, বিশেষ ধরনের কবিরাজি তেল ব্যবহার করে থাকেন৷ এগুলি ব্যবহার ভীষণভাবে ক্ষতিকর৷ বহুক্ষেত্রে জীবননাশের আশংকা বহন করে থাকে৷
ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্সকের পরামর্শ নিন৷

পাঠ – ২

শরীরের কোনো অংশ আগুনে পুড়লে প্রচুর ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে (২০ মিনিট পর্যন্ত)। বার্নল ক্রিম লাগানো যেতে পারে পোড়া স্থানে। এত কিছুর পরও যদি ফোসকা পড়ে যায়, কোনো অবস্থাতেই ফোসকা ফাটানো যাবে না। আর শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেলে কিংবা ফোসকা ফেটে ক্ষত তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিকল্প চিকিত্সা:

ঘরে কারো শরীরের কোন অংশ পুড়ে গেলে কি করবেন! দৌড়া দৌড়ী না করে টুথপেষ্ট দিয়ে ভাল করে আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থানে প্রলেপ করে দেন। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

পুড়ে যাওয়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা

পুড়ে যাওয়া সাধারণত তিন ধরনের

১ম ডিগ্রী: তাপ লেগে চামড়া লাল হয়ে যায়। কোনো ফোস্কা পড়ে না।

২য় ডিগ্রী: চামড়া পুড়ে ফোস্কা পড়ে।

৩য় ডিগ্রী: পুড়ে যাওয়ার গভীরতা চামড়া ভেদ করে মাংস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পুড়ে যাওয়া প্রাথমিক চিকিৎসা রোগীকে দ্রুত আগুনের উৎস থেকে সরিয়ে আনতে হবে।

* পরনের কাপড়ে আগুন লাগলে মোটা কাপড় বা কম্বল দিয়ে রোগীকে জড়িয়ে ধরতে হবে। এবং মাটিতে শুয়ে গড়াতে হবে। এতে আগুন নিভে যাবে।

* শরীরের যে অঙ্গ পুড়ছে সেখানে পানি ঢালতে হবে। ;

* ১ম ডিগ্রী পোড়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পানি ঢাললেই হবে, আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। পানি ঢালতে হবে ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট।

* ২য় ডিগ্রী পোড়ার ক্ষেত্রে লম্বা সময় ধরে পানি ঢালতে হবে, ১-২ ঘণ্টা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে ফোস্কা গরানোর দরকার নেই। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

* ৩য় ডিগ্রী পোড়ার ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া উচিত। হাপাতালে নেওয়ার পূর্বে পোড়া স্থানে পানি ঢালতে হবে।






Privacy policy

Desherkhobor24 2016-2020© All rights reserved.

<