July 4, 2020, 12:54 pm

রোজার ঈদ মানেই যেন আনন্দের ফোয়ারা-রাকিবুজ্জামান আহমেদ

রোজার ঈদ মানেই যেন আনন্দের ফোয়ারা-রাকিবুজ্জামান আহমেদ

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

ঈদ মানে আনন্দ। আর রোজার ঈদ মানেই হলো যেন সকলের জন্য আনন্দের ফোয়ারা। আনন্দ শুরু হয় রোজা রাখার মধ্য দিয়ে। তবে এবার স্বাভাবিক কারণেই ঈদের চিরচেনা রূপ কিছুটা ভিন্ন। আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, আতংক, অনিশ্চয়তা সব কিছু মিলিয়ে অপরিচিত এক ঈদ উদযাপন করতে চলেছি আমরা। অনেকেই বাড়ি-ঘর, পরিবার-পরিজন ছেড়ে আবার কাছাকাছি থেকেও এক অনিবার্য দূরত্ব মেনে পালন করবো এবারের ঈদ। ঈদের সার্বজনীন চরিত্র হারানোর এই অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে নতুন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে জনজীবন এমনিতেই অনেকটা দূর্ভোগে। ঈদ পালনের আনুষ্ঠানিকতা তাই অনেকটাই এবার ফিকে।

রোজার ঈদের চিরন্তন শিক্ষা হচ্ছে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা এবং ধনী গরিব ভেদাভেদ ভুলে সার্বজনীন আনন্দ উৎসবে মিলিত হওয়া। ঈদের নামাজের পর পরিবারের সকলে একত্রিত হওয়া, একে অন্যের বাড়িতে যাওয়া, খাওয়াদাওয়া করা, ঘুরে বেড়ানো, প্রতিবেশী-পরিচিতজনের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানো, উপহার বিনিময় করা এসবই ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। এছাড়া ঈদের দিনে মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরে, সালাম করে দোয়া নেওয়া, মৃত আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারতের মত ধর্মীয় ও সামাজিক আচারও রয়েছে। এবারের ঈদে এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতায় দেখা দিতে পারে কিছু ভিন্নতা। করোনা শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরকারী বিধিনিষেধ থাকায় সামাজিক মেলামেশায় এক ধরনের অনাগ্রহ এবং আতঙ্ক রয়েছে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং করোনায় আপনজন হারানো মানুষের আহাজারিতে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান।

ঈদের নামাজেও থাকবে ভিন্ন চেহারা। সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ঈদগাহে নামাজ না হওয়ায় দেখা যাবে না বাবা-ছেলের হাতে হাত রেখে ঈদগার দিকে হেঁটে যাবার সুন্দর মূহুর্ত। নামাজ শেষে হবে না কোলাকুলি, হ্যান্ডশেক। আবার সংক্রমণের আতঙ্কে অনেকে ঈদের নামাজেই যাবেন না এবার। অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে, আইসোলেশনে থাকায় সেই পরিবারগুলোর ঈদ বলে কিছু নেই। অনেকে বহু কাঙ্ক্ষিত ছুটি পেলেও পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন না সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে। এমন ঈদ আমাদের আগে চোখে পড়েনি কখনো।

তবে আনুষ্ঠানিকতা, রীতিনীতি পালনের ঘাটতি দেখা গেলেও, ঈদের প্রকৃত কিছু শিক্ষা কাকতালীয়ভাবে কিছু দিন যাবত দৃশ্যমান হচ্ছে। করোনার এই দূর্যোগে দায়িত্বশীলতা এবং মানবিকতাবোধ জাগ্রত হতে দেখা গেছে সমাজের সামর্থ্যবানদের মাঝে। অন্যের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, সাহায্যে এগিয়ে আসা আর অভাবগ্রস্তকে সহায়তা করাইতো ঈদের শিক্ষা। করোনার প্রভাবে অনেকেরই বোধোদয় হয়েছে জীবনের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে। এই বোধোদয় যদি সত্যি জাগ্রত হয় তাহলে ঈদের সৌহার্দ্য, ভাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির শিক্ষা ব্যক্তিজীবনে চর্চা করা সহজ হবে। করোনায় সবাই মিলে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি মানব সেবার যে চর্চা আরম্ভ হয়েছে, তা যদি প্রকৃত অর্থে হৃদয়ঙ্গম হয়, তাহলে সারাবছর কষ্ট- আনন্দ ভাগাভাগির ইচ্ছা পোষণ করবে সবাই। ঈদের আসল উদ্দেশ্য ও শিক্ষা তো এটাই।

ঈদ সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগির দিন। সুখ-দুঃখের এই ভাগাভাগির শিক্ষা কেবল আত্মোপলব্ধি এবং পরোপকারের অনুশীলনের মাধ্যমেই সম্ভব। করোনার প্রেক্ষিতে গত কিছুদিনের মানবিক প্রয়াসের সঙ্গে ঈদের শিক্ষা মেলালে বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে সমাজের পিছিয়ে পড়া, সংকটে থাকা মানুষগুলির প্রতি সহমর্মী করে তুলতে পারে।

বারবার ফিরে আসুক ঈদের চিরচেনা আনন্দের রূপ। সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে থাকুক সারাবছর, সকলের জীবন। অচেনা এই ভিন্ন ঈদে এটাই হোক প্রার্থনা ।

সবাইকে ঈদ মোবারক।

লেখকঃRakibuzzaman ahmed- এর টাইমলাইন থেকে নেয়া।






Desherkhobor24 2016-2020© All rights reserved.

<